প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই ঘোষণার পরও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।
দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ তাদের প্রধান দাবি এবং এ বিষয়ে কোনো সমঝোতার সুযোগ নেই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সিজেপির নেতা অভিজিৎ ডিপকে বলেন, আন্দোলন ঠেকাতে সরকার দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত হলেও শিক্ষামন্ত্রীকে সরাতে রাজি নয়।
তার ভাষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে।
সৌরভ দাস জানান, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার বিষয়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে তার একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তারা অহিংসভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
অভিজিৎ ডিপকে এক বিবৃতিতে বলেন, শান্তি ও অহিংসাই তাদের আন্দোলনের মূল শক্তি। সরকারি দমন-পীড়নের মধ্যেও সমর্থকেরা যে ধৈর্য ও সাহস দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি।
এদিকে সোনম ওয়াংচুক বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিলেই তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে।
এর মধ্যে সংসদ মার্গ থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, কর্তব্য পথ ও বারখাম্বা রোড থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সিজেপি জানিয়েছে, দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত আন্দোলনের মূল দাবি পূরণ করছে না। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: দ্য হিন্দু