ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আমৃত্যু ভোগদখলে থাকবেন বাবা-মা, সংসদে বিল পাস

সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আমৃত্যু ভোগদখলে থাকবেন বাবা-মা, সংসদে বিল পাস
ফাইল ছবি
ফলো করুন

বৃদ্ধ বাবা-মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঠেকাতে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে বাবা-মা জীবিত অবস্থায় সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করলেও আমৃত্যু ওই সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিলটি নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেন, প্রস্তাবিত কিছু বিধান মুসলিম শরিয়া আইনের হেবা বা দান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, বাবা-মাকে প্রতারণা বা চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি নেওয়ার ঘটনা বন্ধে আইন প্রয়োজন। তবে এ ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান ও প্রচলিত সম্পত্তি আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তারা ইসলামিক স্কলার, ফতোয়া বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার দাবি জানান।

তাদের মতে, মুসলিম আইনে হেবা কার্যকরের ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই দান করার পরও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রাখার বিধান নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন আইনের সঙ্গে শরিয়া আইনের কোনো বিরোধ নেই। তিনি বলেন, সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, নতুন বিধানের উদ্দেশ্য হলো, বাবা-মা যেন জীবনের শেষ সময়ে নিজেদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হন। সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করার পরও তারা যেন নিরাপদে ওই সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

নতুন আইনে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ১২২ক ও ১২২খ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বাবা-মা সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার বজায় থাকবে। এমনকি সম্পত্তি গ্রহণকারী মারা গেলেও দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে দাতা ও গ্রহীতার সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই অধিকার পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন আইন প্রচলিত দান বা হেবা পদ্ধতিকে বাতিল করছে না। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক আইনি ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হবে এবং সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

বিলের ওপর আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হওয়ার পর বিলটি পাস হয়।

এর আগে ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ সম্পত্তি আইন

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আমৃত্যু ভোগদখলে থাকবেন বাবা-মা, সংসদে বিল পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বৃদ্ধ বাবা-মাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঠেকাতে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে বাবা-মা জীবিত অবস্থায় সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করলেও আমৃত্যু ওই সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার নিজেদের কাছে রাখতে পারবেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিলটি নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য দাবি করেন, প্রস্তাবিত কিছু বিধান মুসলিম শরিয়া আইনের হেবা বা দান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

বিরোধী সদস্যরা বলেন, বাবা-মাকে প্রতারণা বা চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তি নেওয়ার ঘটনা বন্ধে আইন প্রয়োজন। তবে এ ধরনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান ও প্রচলিত সম্পত্তি আইনের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তারা ইসলামিক স্কলার, ফতোয়া বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতামত নেওয়ার দাবি জানান।

তাদের মতে, মুসলিম আইনে হেবা কার্যকরের ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই দান করার পরও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার রাখার বিধান নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন রয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন আইনের সঙ্গে শরিয়া আইনের কোনো বিরোধ নেই। তিনি বলেন, সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, নতুন বিধানের উদ্দেশ্য হলো, বাবা-মা যেন জীবনের শেষ সময়ে নিজেদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না হন। সন্তানদের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করার পরও তারা যেন নিরাপদে ওই সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন, সেটিই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

নতুন আইনে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ১২২ক ও ১২২খ ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বাবা-মা সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার বজায় থাকবে। এমনকি সম্পত্তি গ্রহণকারী মারা গেলেও দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে দাতা ও গ্রহীতার সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এই অধিকার পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে আদালতের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন আইন প্রচলিত দান বা হেবা পদ্ধতিকে বাতিল করছে না। এটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক আইনি ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হবে এবং সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

বিলের ওপর আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবগুলো ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হওয়ার পর বিলটি পাস হয়।

এর আগে ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ