বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই জলপথ পাহারা দেওয়ার বিনিময়ে ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে এবং সম্ভবত এর পরিচালনার দায়িত্বও নেবে। নিজ দেশের সম্ভাব্য ভূমিকাকে তিনি প্রণালিটির ‘অভিভাবক’ বা ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করলে এর জন্য অর্থ পাওয়া উচিত। তাঁর মতে, প্রণালিটি ব্যবহারকারী অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং তারা বিনা খরচে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাসেবা আশা করতে পারে না।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালির কর্তৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই দেশের বাহিনীর পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে উভয় পক্ষই কৌশলগত জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করেছে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে এই পথে চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত আছে।
ইরানও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছে। তেহরানের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বন্ধ হলে এই নৌপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এখানে সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দাম দ্রুত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ