রোগীদের সঙ্গে আন্তরিক, সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, একজন চিকিৎসকের সুন্দর ব্যবহার রোগীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশা শুধু চাকরি নয়, এটি মানুষের জীবন রক্ষার সঙ্গে যুক্ত একটি দায়িত্বশীল সেবা। রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে কঠিন সময় পার করে, তখন চিকিৎসকের ওপর গভীর আস্থা রাখে। তাই রোগীদের ভালোবাসা, সম্মান ও সহানুভূতির সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি একজন চিকিৎসকের আচরণও রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, করোনা মহামারি, হামের প্রাদুর্ভাব এবং সাম্প্রতিক বন্যার সময় দেশের চিকিৎসকেরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। অনেকেই ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চিকিৎসকদের কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সেবাই চিকিৎসকদের প্রকৃত দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার উদাহরণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারা দেশে সমমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সেবার মান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের উপজেলা পর্যায়ে কাজ করার মানসিকতা বাড়াতে হবে। তা না হলে ঢাকা মেডিকেলসহ রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমানো কঠিন হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ