জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে চাকরির অভাবে বিক্ষুব্ধ তরুণদের ক্ষোভ থেকে দেশে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে দেশব্যাপী জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পৌর মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকারকে মনে রাখতে হবে, তারাও গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিল এবং অতীতে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অসংখ্য মানুষ চোখের জল নিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল। মানুষ ভেবেছিল, দীর্ঘদিনের জুলুম-নিপীড়ন ও ঘুণে ধরা ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু গত দুই বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন না আসায় এনসিপি এখন মাঠে নেমে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সারজিস বলেন, ঢাকায় বসে রাজনীতি করার সময় শেষ। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যেতে হবে, মানুষের কথা শুনতে হবে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে ধারণ করতে হবে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সারজিস বলেন, দেশের অন্য জেলার কথা বাদ দিলেও সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়ার মানুষও লোডশেডিংয়ের ভুক্তভোগী। তাই শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, মানুষ কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চার থেকে সাড়ে চার মাস পার হলেও উল্লাপাড়ায় নতুন করে এক হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অভাবী মানুষের সংকট আরও বেড়েছে।
সারজিস আলম আরও বলেন, তরুণ প্রজন্ম এখন বলছে, অনেক কার্ড দেওয়া হয়েছে, এবার বেকারদের জন্যও একটি কার্ড দেওয়া হোক।
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহি, যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ