সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট চারটি বিষয়কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন। আপিল বিভাগের রায়ে সেগুলো বহাল থাকল।
তিনি জানান, অসাংবিধানিক ঘোষিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধানের কিছু বিষয় পরিবর্তন করলে তা সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করার বিধান, গণভোটের বিধান বাতিল, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল।
শিশির মনির বলেন, চারটি বিষয় অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান কোনো দণ্ডবিধি নয়। কেউ অপরাধ করলে তা নির্ধারণ করবে দণ্ডবিধি এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে ফৌজদারি কার্যবিধি। পৃথিবীর কোনো সংবিধানে শাস্তির বিধান থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না—এমন অবস্থান সঠিক নয় উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, সংবিধান একটি জীবন্ত দলিল। সময়, বাস্তবতা ও প্রজন্মের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানে পরিবর্তন আনা যায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।
পরে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের পুরো অংশ এবং কয়েকটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক রিট করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এরপর পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সম্পূর্ণ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক লিভ টু আপিল করেন। এছাড়া মোফাজ্জল হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি পৃথক লিভ টু আপিল করেন।
আদালতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রায়ের পর আবেদনকারী ও সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য জুবাইরুল হক ভূইয়া বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে সংবিধানের মৌলিক চেতনা ও মূল্যবোধ আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। তার মতে, এই রায় দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্যসমূহ