নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মাদক নিয়ন্ত্রণ, মানবপাচার রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নকভির সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে যে মানবিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুই দেশের মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় করেন।
ভিয়েতনামের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লংয়ের সঙ্গে বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, কনসুলার সহযোগিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানবপাচার ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনের বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
ভিয়েতনামের উপমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডি-কার্লোর সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহায়তা চান তিনি।
রোজমেরি ডি-কার্লো জাতিসংঘে বাংলাদেশের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি শান্তিরক্ষা ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদানকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্তব্যসমূহ