ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গাবতলীতে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস

কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গাবতলীতে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

কৃষিপণ্য রপ্তানির সব প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজধানীর গাবতলীতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সেন্টারে কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু হচ্ছে। আগামীকাল থেকে রপ্তানিকারকরা একই স্থানে পণ্য শোধন, প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠাতে পারবেন।

সোমবার রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন স্থাপিত ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে এখানে পণ্য আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রপ্তানির জন্য পাঠানো যাবে।

তিনি জানান, রপ্তানিযোগ্য ফল বিমানবন্দরে সংরক্ষণের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমসহ দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কাঁঠাল নিয়েছে। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রবেশ করাতে হলে বিশ্বমানের প্যাকিং, শোধন ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক ন্যায্য দাম পান না। তাই কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানো এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বিমানভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রপ্তানি খরচ কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও কার্গো সুবিধা বাড়ানো এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এই ভিএইচটি সেন্টারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সারা দেশে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর ভোক্তাদের স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জনই বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানের আগে কৃষিমন্ত্রী ভিএইচটি সেন্টার উদ্বোধন করেন। কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গাবতলীতে চালু হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

কৃষিপণ্য রপ্তানির সব প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজধানীর গাবতলীতে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সেন্টারে কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু হচ্ছে। আগামীকাল থেকে রপ্তানিকারকরা একই স্থানে পণ্য শোধন, প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠাতে পারবেন।

সোমবার রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন স্থাপিত ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। আগামীকাল থেকে এখানে পণ্য আসবে, ওয়াশ হবে, প্যাকিং হবে এবং কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রপ্তানির জন্য পাঠানো যাবে।

তিনি জানান, রপ্তানিযোগ্য ফল বিমানবন্দরে সংরক্ষণের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আমসহ দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে কিছু কাঁঠাল নিয়েছে। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে আম আমদানিতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য প্রবেশ করাতে হলে বিশ্বমানের প্যাকিং, শোধন ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লেও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক ন্যায্য দাম পান না। তাই কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানো এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বিমানভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রপ্তানি খরচ কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও কার্গো সুবিধা বাড়ানো এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এই ভিএইচটি সেন্টারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সারা দেশে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সারা বছর ভোক্তাদের স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জনই বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানের আগে কৃষিমন্ত্রী ভিএইচটি সেন্টার উদ্বোধন করেন। কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ