শেষ বত্রিশের মঞ্চে ফুটবল বিশ্ব দেখল শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে ছিল বিশ্বকাপে প্রথমবার আসা কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে ব্যবধান বড় হলেও মাঠের লড়াইয়ে সেটি বোঝার উপায় ছিল না। দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপে রাখে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১১১তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেডে আসে জয়সূচক গোল। তার আগ পর্যন্ত কেপ ভার্দের সাহসী ফুটবল বারবার আর্জেন্টিনার জন্য বিপদের বার্তা হয়ে উঠেছিল।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। মাঝমাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এটি মেসির ২০তম গোল। চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল সাতটিতে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ছয় গোল নিয়ে তার পেছনে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কেপ ভার্দে আরও সাহসী হয়ে ওঠে। ৫৯তম মিনিটে দলটিকে সমতায় ফেরান ডেরয় দুয়ার্তে। রায়ান মেন্ডেসের ডান দিক থেকে বাড়ানো বল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় দুয়ার্তের কাছে। দ্রুত এগিয়ে আসা লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে সামনে পেয়েও ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল পাঠান তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৬৩তম মিনিটে মেসির দারুণ প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৭৩তম মিনিটে মেসির নেওয়া ফ্রি কিকও তিনি ফিরিয়ে দেন। এরপর আর্জেন্টিনা একাধিক আক্রমণ করলেও কেপ ভার্দের রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারেনি। নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ সমতায়।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে পাওয়া বল ধরে জোরালো বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার হাতে চলে গেছে।
কিন্তু কেপ ভার্দে হার মানেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে বল পেয়ে ভেতরে কাট করেন সিডনি কাবরাল। এরপর ডান পায়ে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের ওপরের কোণে। গোলটি আর্জেন্টিনাকে আবারও অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। মেসির কর্নার থেকে আসা বলে সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেড করেন তিনি। বল জালে জড়াতেই স্বস্তি ফিরে আসে আর্জেন্টিনা শিবিরে।
জয় পেলেও আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আর হারলেও কেপ ভার্দে দেখিয়েছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে সাহস, লড়াই আর বিশ্বাস থাকলে ছোট দলও বড়দের কাঁপিয়ে দিতে পারে।
মন্তব্যসমূহ