ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার

হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের সহযোগী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হবেন স্টিফেন মিলার। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে তাঁর নতুন দায়িত্ব কার্যকর হবে।

স্টিফেন মিলার দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে কঠোর অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

চিফ অব স্টাফ হওয়ার আগে তিনি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প মিলারকে তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে বিদায়ী চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাজের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট। ওয়াইলস ভবিষ্যতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পায় ডেমোক্রেটিক পার্টি। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ফলে আগামী দুই বছর ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসে তদন্তের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

স্টিফেন মিলার প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যবহারের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

নতুন নিয়োগের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিলারকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান নীতিগত অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিভিন্ন নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর ট্রাম্পের নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে চিফ অব স্টাফ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে শুধু নির্বাচনী পরাজয়কে দায়ী করেননি ট্রাম্প।

নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলার জানান, তাঁদের সামনে করণীয় এখন আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের পর প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, সুসি ওয়াইলসের বিদায়ই শেষ পরিবর্তন নয়।

তবে মন্ত্রিসভার কোন কোন সদস্যকে পরিবর্তন করা হবে কিংবা কবে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধীলন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

পরদিন শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেসের পদত্যাগের তথ্যও প্রকাশিত হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরপরই এসব পদত্যাগের ঘটনা ঘটলেও প্রত্যেক কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের কারণ একই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নীতির সমালোচনা করেছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে বড় ভুল ও অপ্রয়োজনীয় সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি।

তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিরোধিতা উঠে এসেছে।

কানসাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস মানকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিএনএনের ডিসিশন ডেস্ক।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও কৌঁসুলি ক্রিস মান নির্বাচনী প্রচারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং মাদক ও পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মিসিসিপির সিনেট নির্বাচন এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলাম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

কলাম নিজের জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে ভোট গণনা ও ফল চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।

নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসের নেতৃত্ব পরিবর্তন, বিচার বিভাগের পদত্যাগ এবং অমীমাংসিত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সূত্র : সিএনএন।

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন স্টিফেন মিলার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
রবিবার৮
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫১ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৪ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৮ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর হোয়াইট হাউসের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের সহযোগী স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হবেন স্টিফেন মিলার। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) থেকে তাঁর নতুন দায়িত্ব কার্যকর হবে।

স্টিফেন মিলার দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে কঠোর অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

চিফ অব স্টাফ হওয়ার আগে তিনি হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প মিলারকে তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে বিদায়ী চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাজের প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট। ওয়াইলস ভবিষ্যতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পায় ডেমোক্রেটিক পার্টি। নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। ফলে আগামী দুই বছর ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসে তদন্তের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।

স্টিফেন মিলার প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যবহারের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

বিশেষ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ ট্রাম্পের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

নতুন নিয়োগের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিলারকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান নীতিগত অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিভিন্ন নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর ট্রাম্পের নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে চিফ অব স্টাফ পরিবর্তনের কারণ হিসেবে শুধু নির্বাচনী পরাজয়কে দায়ী করেননি ট্রাম্প।

নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বক্তব্যে মিলার জানান, তাঁদের সামনে করণীয় এখন আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলের পর প্রশাসনে আরও পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, সুসি ওয়াইলসের বিদায়ই শেষ পরিবর্তন নয়।

তবে মন্ত্রিসভার কোন কোন সদস্যকে পরিবর্তন করা হবে কিংবা কবে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধীলন পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ।

পরদিন শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন আইজেনবার্গ এবং ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনেসের পদত্যাগের তথ্যও প্রকাশিত হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরপরই এসব পদত্যাগের ঘটনা ঘটলেও প্রত্যেক কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের কারণ একই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক নীতির সমালোচনা করেছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে বড় ভুল ও অপ্রয়োজনীয় সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি।

তাঁর বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিরোধিতা উঠে এসেছে।

কানসাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস মানকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিএনএনের ডিসিশন ডেস্ক।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও কৌঁসুলি ক্রিস মান নির্বাচনী প্রচারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণ উন্নত করা এবং মাদক ও পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সম্পদ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মিসিসিপির সিনেট নির্বাচন এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলাম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

কলাম নিজের জয়ের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে ভোট গণনা ও ফল চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বাকি রয়েছে।

নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসের নেতৃত্ব পরিবর্তন, বিচার বিভাগের পদত্যাগ এবং অমীমাংসিত নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সূত্র : সিএনএন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ