জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। গভীর রাতে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বিভিন্ন ভবনের জানালা ভেঙে গেছে, দোকানের তাক থেকে মালামাল ছিটকে পড়েছে এবং বুলেট ট্রেনসহ কয়েকটি রেলপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে শিজুওকা প্রিফেকচারের পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার গভীরে। এতে আইচি অঞ্চলের চিতা শহরে জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের স্কেলে সর্বোচ্চ ৫-আপার মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।
ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আইচি ও শিজুওকা অঞ্চলে।
আইচির জরুরি সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের অধিকাংশের আঘাত গুরুতর নয়।
অন্যদিকে শিজুওকায় অন্তত তিন নারী জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে নব্বই বছরের বেশি বয়সী এক নারী রয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় বিছানা থেকে পড়ে তাঁর কাঁধে আঘাত লাগে।
স্থানীয় সংবাদপত্র চুনাইচি শিমবুন ও তোকাই টেলিভিশনের হিসাবে দুই অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় আইচির তোয়োহাসি শহরের একটি গাড়ির শোরুমের জানালা ভেঙে পড়ে।
একই অঞ্চলের তোয়োতা শহরে একটি বড় বইয়ের দোকানের তাক থেকে বইসহ বিভিন্ন পণ্য মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কম্পন অনুভূত হয়েছে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওসাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওসাকায় ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পড়ে যান এক বিদেশি নাগরিক। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে এ বিষয়ে ওসাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কারণে রোববার সকালে জাপানের দ্রুতগতির শিনকানসেন বুলেট ট্রেনসহ কয়েকটি আঞ্চলিক রেলপথে চলাচল ব্যাহত হয়।
নিরাপত্তার কারণে কিছু ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকটি রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়।
এতে যাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যা দেখা দেয়।
কুমামোতোয় আরও একটি ভূমিকম্প
একই দিন সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে জাপানের কুমামোতো অঞ্চলে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিতীয় ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার কাছাকাছি আরও ভূমিকম্প হতে পারে। বিশেষ করে প্রথম দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকা জরুরি।
পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও পাথরধসের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।
২০১১ সালে জাপানের সমুদ্রতলে ৯ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। ওই দুর্যোগে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সূত্র : এএফপি














মন্তব্যসমূহ