ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে জানাতেই তিনি জনগণকে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, ইরানের জনগণকে শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, ইরানি জাতিকে দেখাতে হবে যে তারা অন্যায় ও আগ্রাসনের সামনে নীরব থাকবে না। খামেনির রক্তের কথা তারা ভুলে যাবে না। ইরানের প্রতিশোধের আহ্বান যেন বিশ্বের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে যায়।
গালিবাফের ভাষায়, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এত দিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।
শনিবার খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এমন জনসমাগম হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানগুলোর একটি।
শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান ঘিরে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে তেহরানের কেন্দ্রীয় এলাকার বড় অংশে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।
সূত্র: এএফপি
মন্তব্যসমূহ