ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, চুক্তির পথে দুই দেশ

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, চুক্তির পথে দুই দেশ
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে দেশটির জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার প্রস্তাবসংবলিত খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে সমঝোতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের জন্য কিছু শর্ত ও ছাড়ের বিষয় রাখা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কমিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরি করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও জানিয়েছেন। দেশ দুটি খসড়াটিতে সম্মতি দিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে।

প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদেশে জব্দ থাকা দেশটির সম্পদ।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, সমঝোতার আওতায় তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি ছাড় ঘোষণা করবে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচির কোন ক্ষেত্রে ইরান ছাড় দেবে কিংবা কত পরিমাণ সম্পদ মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে একই সময়ে নিজ নিজ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই যৌথ ঘোষণার প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ঘোষণার বিষয়ও রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সমঝোতা পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তির পরিবর্তে বৃহত্তর সমঝোতার প্রাথমিক ধাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

এরপর ১৮ জুন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে।

তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় ওই সমঝোতার বাস্তবায়ন আটকে যায়।

আগের সমঝোতা বাস্তবায়নে জটিলতা থাকলেও এবার পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্মতির বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে প্রস্তাবিত খসড়ার বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত সম্মতি কিংবা আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির খবর পাওয়া গেলেও সমঝোতা কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আলোচনার ফলাফলের ওপর।

সূত্র : আল-জাদিদ।

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ইরানের সঙ্গে সমঝোতার খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি, চুক্তির পথে দুই দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে দেশটির জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার প্রস্তাবসংবলিত খসড়ায় সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদকে সমঝোতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষের জন্য কিছু শর্ত ও ছাড়ের বিষয় রাখা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কমিয়ে নতুন আলোচনার পথ তৈরি করা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও জানিয়েছেন। দেশ দুটি খসড়াটিতে সম্মতি দিয়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে।

প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং বিদেশে জব্দ থাকা দেশটির সম্পদ।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, সমঝোতার আওতায় তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে একটি ছাড় ঘোষণা করবে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচির কোন ক্ষেত্রে ইরান ছাড় দেবে কিংবা কত পরিমাণ সম্পদ মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে একই সময়ে নিজ নিজ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই যৌথ ঘোষণার প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ঘোষণার বিষয়ও রয়েছে। এই অন্তর্বর্তী সমঝোতা পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তির পরিবর্তে বৃহত্তর সমঝোতার প্রাথমিক ধাপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

ওই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

পরবর্তী সময়ে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

এরপর ১৮ জুন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে।

তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় ওই সমঝোতার বাস্তবায়ন আটকে যায়।

আগের সমঝোতা বাস্তবায়নে জটিলতা থাকলেও এবার পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নতুন প্রস্তাব সামনে এসেছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান এই প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্মতির বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে প্রস্তাবিত খসড়ার বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত সম্মতি কিংবা আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির খবর পাওয়া গেলেও সমঝোতা কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আলোচনার ফলাফলের ওপর।

সূত্র : আল-জাদিদ।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ