ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল সাভার-আশুলিয়া, আহত ৫০

শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল সাভার-আশুলিয়া, আহত ৫০
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন পঞ্চম দিনেও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শ্রমিক ও পাঁচজন সংবাদকর্মী রয়েছেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সকালে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের সামনে জড়ো হন শ্রমিকরা। পরে তাঁরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ অবরোধকারীদের সরাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ একদল লোক। এ সময় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম আহত হন।

একই সময়ে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী। তাঁরা হলেন স্টার নিউজের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের রিপোর্টার নাজমুল হুদা ও ক্যামেরাপারসন ইমদাদ হোসেন।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর বক্তব্য নেওয়ার পর তাঁরা ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় মুখোশ ও মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি তাঁদের সাংবাদিক পরিচয় জানার পরও লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান।

আহমাদ সোহান সিরাজী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁদের ধাওয়া করে মারধর করেছেন।

এদিকে উলাইল এলাকায়ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সকাল ৯টার পর শ্রমিকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নেন। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকাতেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ ও নিউ এজসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলেও পরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরিস্থিতির কারণে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বাইরে এসে বিক্ষোভ করেন। আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, আশুলিয়ায় ১৭৩টি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সাভার ও আশুলিয়া মিলিয়ে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাভারে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন জানান, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, বহিরাগতদের ইন্ধনে কিছু শ্রমিক উৎপাদন বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর নাগাদ শিল্প পুলিশের আওতাধীন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

অন্যদিকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক দুই দিক থেকে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। হামলায় ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, দুপুরের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব দাবি নিয়েই টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন তাঁরা।

ট্যাগ : বিজিবি সাভার শ্রমিক আন্দোলন পোশাকশ্রমিক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল সাভার-আশুলিয়া, আহত ৫০

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন পঞ্চম দিনেও সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, শ্রমিক ও পাঁচজন সংবাদকর্মী রয়েছেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সকালে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের সামনে এবং সকাল ৯টার দিকে উলাইল এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের সামনে জড়ো হন শ্রমিকরা। পরে তাঁরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ অবরোধকারীদের সরাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ একদল লোক। এ সময় সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম আহত হন।

একই সময়ে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন পাঁচ গণমাধ্যমকর্মী। তাঁরা হলেন স্টার নিউজের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি আহমাদ সোহান সিরাজী, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন, ক্যামেরাপারসন মো. উজ্জ্বল হোসেন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের রিপোর্টার নাজমুল হুদা ও ক্যামেরাপারসন ইমদাদ হোসেন।

আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর বক্তব্য নেওয়ার পর তাঁরা ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় মুখোশ ও মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি তাঁদের সাংবাদিক পরিচয় জানার পরও লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যান।

আহমাদ সোহান সিরাজী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁদের ধাওয়া করে মারধর করেছেন।

এদিকে উলাইল এলাকায়ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সকাল ৯টার পর শ্রমিকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নেন। পরে বেলা ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকাতেও শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ ও নিউ এজসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিলেও পরে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরিস্থিতির কারণে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বাইরে এসে বিক্ষোভ করেন। আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, আশুলিয়ায় ১৭৩টি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সাভার ও আশুলিয়া মিলিয়ে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সাভারে দায়িত্ব পালনরত বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইমুন জানান, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, বহিরাগতদের ইন্ধনে কিছু শ্রমিক উৎপাদন বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর নাগাদ শিল্প পুলিশের আওতাধীন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

অন্যদিকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, সকালে পদ্মার মোড় এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক দুই দিক থেকে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং সাভার মডেল থানার ওসির গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। হামলায় ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, দুপুরের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব দাবি নিয়েই টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন তাঁরা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ