ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জাতীয় গ্রিডে ৪৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, দেশজুড়ে সংকট

জাতীয় গ্রিডে ৪৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, দেশজুড়ে সংকট
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৩ কোটি ঘনফুট। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাসের স্বল্প চাপ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। পেট্রোবাংলার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, বুধবার সকাল ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৪ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ হয় ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।

তবে দুপুর ২টার মধ্যে মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২১১ কোটি ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় একই থাকলেও এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে ৫৪ কোটি ঘনফুটে।

ফলে আগে থেকেই ঘাটতিতে থাকা জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ।

এক্সিলারেটের টার্মিনালটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালটির সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। ফলে যেকোনো একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

সরকারি হিসাবে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত।

অন্যদিকে স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ থাকে গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের মধ্যেই সামিটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সংকট এবং বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ চলার কথা রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দেশে গ্যাসের সামগ্রিক ঘাটতি থেকে যাবে।

ট্যাগ : গ্যাস সংকট এলএনজি টার্মিনাল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


জাতীয় গ্রিডে ৪৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে, দেশজুড়ে সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৩ কোটি ঘনফুট। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে গ্যাসের স্বল্প চাপ দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। পেট্রোবাংলার পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, বুধবার সকাল ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৪ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ হয় ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।

তবে দুপুর ২টার মধ্যে মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২১১ কোটি ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় একই থাকলেও এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে ৫৪ কোটি ঘনফুটে।

ফলে আগে থেকেই ঘাটতিতে থাকা জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ।

এক্সিলারেটের টার্মিনালটির দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালটির সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। ফলে যেকোনো একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

সরকারি হিসাবে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত।

অন্যদিকে স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ থাকে গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের মধ্যেই সামিটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ সংকট এবং বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম থাকতে পারে। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ চলার কথা রয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ শেষে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দেশে গ্যাসের সামগ্রিক ঘাটতি থেকে যাবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ