ইরানের প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে তেহরান। বহুদেশের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনায় স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, বিদেশি অতিথি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সীমান্ত, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীও আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ, বিপ্লবী গার্ড ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন। তার স্মরণে ইরান কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই তেহরানে খামেনির জানাজা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র কোম শহরে শোকানুষ্ঠান হবে। সবশেষে ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে মরদেহ দাফন করা হবে।
আয়োজকদের ধারণা, এই দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন। তাই ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা তল্লাশি, যান চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরানের বড় রাষ্ট্রীয় জানাজাগুলোতে লাখো মানুষের সমাগমে বিশৃঙ্খলা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। সে অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে তেহরান অনুষ্ঠানটিকে শুধু রাষ্ট্রীয় শোক নয়, বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ