চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি নিরসনে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অনুরোধ বা সম্মতি এলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক দূরত্ব কমাতে মস্কো সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় অঞ্চলে যেন কোনোভাবেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে, তা রোধ করতেই এ উদ্যোগ নিতে চায় রাশিয়া।
মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের বিতর্কিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি যদি কোনো বড় জটিলতা বা অন্তরায় হিসেবে সামনে আসে, তবে সেই স্পর্শকাতর বিষয়টির কূটনৈতিক সমাধানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত ক্রেমলিন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগে ইরান পরিস্থিতি প্রায়শই একটি অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে এবং এ ইস্যুতে উভয় পক্ষই নিয়মিত নিজেদের অবস্থান ও মতামত বিনিময় করে থাকে।
এর আগে প্রায় সপ্তাহখানেক পূর্বেও পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল মস্কো। সে সময় রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘ইজভেস্তিয়া’কে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ যদি আগ্রহ প্রকাশ করে, তবে কার্যকর মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিতে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই।
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুদেঙ্কো আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অচলাবস্থা কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে সমাধান করা যেতে পারে, সে বিষয়ে রাশিয়া আগেই নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে সেই প্রস্তাবগুলোতে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি বা কার্যকর আন্তর্জাতিক সমর্থন মেলেনি।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ