জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা যত এগোচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের অগ্রগামিতা ততই সুসংহত হচ্ছে। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঘোষিত ১৩৫টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর চেয়ে ৯৩ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় ফলাফল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রাপ্ত ১৩৫টি কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯২ ভোট। অপরদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭২ হাজার ২৭৮ ভোট। ফলে ১৩৫ কেন্দ্র শেষে বিএনপি প্রার্থী ৯৩ হাজার ৪১৪ ভোটের বড় ব্যবধানে স্পষ্ট আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে বিরতিহীন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। মাঠে নিয়োজিত ছিলেন ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। এছাড়া দায়িত্ব পালন করেন নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। অন্যদিকে ৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ জন দেশি ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক সরেজমিনে ভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, এ উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। বাকি ৫০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করবেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মন্তব্যসমূহ