জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ চলাকালে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য মেলেনি বলেও জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ভোটগ্রহণ পরবর্তী এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, "উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শেষ হয় এবং কেন্দ্রগুলোতে কোনো ভোটার অপেক্ষমাণ ছিলেন না। বর্তমানে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে।" তিনি আরও জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত আসনটিতে প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছিল, যা চূড়ান্ত গণনার পর আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে বাধা ও অনিয়মের নানা অভিযোগ তোলা হলেও ইসির নজরে এ ধরনের কোনো ঘটনা আসেনি বলে দাবি করেন সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সে তুলনায় উপনির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে।
এ উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষিত হয় এবং এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
মন্তব্যসমূহ