নেত্রকোনার মদন উপজেলায় একটি কওমি মাদ্রাসার ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার রায় আগামী ১১ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের এ দিন ধার্য করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালাম উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানির একপর্যায়ে প্রধান আসামি ও মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চান। এ সময় তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে আকুতি জানান, তাঁর যা সম্পদ রয়েছে সবকিছুর বিনিময়ে হলেও যেন তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আপসের প্রসঙ্গ তুললে আদালত তা সরাসরি নাকচ করে দেন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতে শুনানিতে জানান, কাইটাইল ইউনিয়নের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর প্রতিষ্ঠানটিতে পড়ুয়া শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় সাগর ও তাঁর ভাই মামুন মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে গেলেও গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার হন সাগর।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটি একটি সন্তান প্রসব করলে আদালতের নির্দেশে নবজাতক এবং শিক্ষক সাগরের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়। গত আগস্টে প্রকাশিত সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে নবজাতক ও আসামি সাগরের ডিএনএ-র মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিখুঁত মিল পাওয়া যায়, যা রাষ্ট্রপক্ষের জন্য সন্দেহাতীত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ২৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্যসমূহ