ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য পরবর্তী সরকারে দুই কট্টর ডানপন্থি নেতা ইতামার বেন-গিভর ও বেজালেল স্মোৎরিচকে রাখতে চান না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের তথ্য পরে তুলে ধরে দ্য জেরুজালেম পোস্টও।
সূত্রগুলোর দাবি, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর পরবর্তী মন্ত্রিসভায় বেন-গিভর ও স্মোৎরিচকে দেখতে চান না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নেতানিয়াহুর সর্বশেষ সরকারে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ইতামার বেন-গিভর। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী ছিলেন বেজালেল স্মোৎরিচ।
দুই নেতাই ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির পরিচিত মুখ। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।
ওয়াল্লাকে মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ট্রাম্পের আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে।
বিশেষ করে গাজা নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়ছে বলে মনে করেন তিনি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কারণেই সম্ভাব্য নতুন সরকার থেকে বেন-গিভর ও স্মোৎরিচকে দূরে রাখার পক্ষে ট্রাম্প।
তবে এটি মার্কিন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবর। এ বিষয়ে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রকাশ্য নির্দেশনার তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে কোনো রাজনৈতিক পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পেতে পারে ৫৩টি আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮টি। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে রয়েছে।
নির্বাচনের আংশিক ফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯ আসনের পূর্বাভাস সরকার গঠনের আলোচনায় নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।
বিরোধী জোটের ৪৮ আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯ আসনের সমর্থন যোগ হলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭।
তবে সংখ্যার এই হিসাব রাজনৈতিক সমঝোতার নিশ্চয়তা দেয় না।
বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বামপন্থি নেতা ইয়ার গোলান বিরোধী জোটের নেতা আইজেনকটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলার মধ্যেই বিরোধী জোটের ঐক্য ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিরোধী শিবিরের ডানপন্থি নেতা আভিগদোর লিবারম্যান এবং তাঁর দল ইসরায়েল বেইতেনু নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি।
ফলে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ এখনো পরিবর্তনশীল।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের বিদায়ী সরকার দায়িত্ব পালন করতে পারে।
সে অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে এ জন্য তাঁকে নতুন করে আলাদা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে না। বিদায়ী সরকারই নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যায়।
রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলবে।
সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ওয়াল্লার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন থাকলেও তাঁর পরবর্তী সরকারে বেন-গিভর ও স্মোৎরিচের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আপত্তি রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
এখনো চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল প্রকাশ ও নতুন সরকার গঠন বাকি। ফলে পরবর্তী মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, তা নিশ্চিত নয়।
এর মধ্যেই দুই কট্টর ডানপন্থি নেতাকে নিয়ে মার্কিন সূত্রের বক্তব্য ইসরায়েলের সরকার গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র : রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ