ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর

‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ কর্মসূচিকে কোনো দলীয় স্বার্থ নয়, বরং ভারতের সংবিধান সুরক্ষা, গণতন্ত্র রক্ষা ও রাষ্ট্রের ‘আত্মা বাঁচানোর’ জাতীয় আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী ঘোষণা দেন, শান্তিপূর্ণ এ পদযাত্রায় পুলিশি বাধা বা লাঠিচার্জ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই; ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো অগণতান্ত্রিক কৌশল ব্যবহারের সাহস পাবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সবাইকে সংবিধান রক্ষায় একসঙ্গে রাজপথে নামার তাগিদ দেন তিনি।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভ মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে আয়োজিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক এলাকায় মিছিল নিয়ে ঢুকতে না পারেন, সে লক্ষ্যে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লি ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের এই মহাসমাবেশে অংশ নিতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১২ একর আয়তনের এই ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পুরো সমাবেশস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ১৫০টি উচ্চ রেজল্যুশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসক্ষম (এআই) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যা সরাসরি ময়দানের অস্থায়ী পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাঠের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের শরীরে থাকবে বডি-অর্ন ক্যামেরা, যাতে বলপ্রয়োগ বা অপ্রীতিকর আচরণের অভিযোগ উঠলে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।

ময়দানের আটটি প্রবেশপথের মধ্যে একটি ফটক কেবল রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সমাবেশ উপলক্ষে আসা যানবাহনের জন্য রাজঘাট ও মাতা সুন্দরী কলেজের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে; সেখান থেকে হেঁটে বিক্ষোভকারীদের রামলীলা ময়দানে পৌঁছাতে হবে।

সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস 

ট্যাগ : রাহুল গান্ধী নভেম্বর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


‘পুলিশ-লাঠি নিয়ে চিন্তা করবেন না’, ১ নভেম্বর দিল্লি মার্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুল গান্ধীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ কর্মসূচিকে কোনো দলীয় স্বার্থ নয়, বরং ভারতের সংবিধান সুরক্ষা, গণতন্ত্র রক্ষা ও রাষ্ট্রের ‘আত্মা বাঁচানোর’ জাতীয় আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী ঘোষণা দেন, শান্তিপূর্ণ এ পদযাত্রায় পুলিশি বাধা বা লাঠিচার্জ নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই; ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো অগণতান্ত্রিক কৌশল ব্যবহারের সাহস পাবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সবাইকে সংবিধান রক্ষায় একসঙ্গে রাজপথে নামার তাগিদ দেন তিনি।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভ মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে আয়োজিত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক এলাকায় মিছিল নিয়ে ঢুকতে না পারেন, সে লক্ষ্যে দিল্লি পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।

দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লি ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের এই মহাসমাবেশে অংশ নিতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১২ একর আয়তনের এই ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পুরো সমাবেশস্থলে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য প্রায় ১৫০টি উচ্চ রেজল্যুশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসক্ষম (এআই) সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যা সরাসরি ময়দানের অস্থায়ী পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মাঠের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের শরীরে থাকবে বডি-অর্ন ক্যামেরা, যাতে বলপ্রয়োগ বা অপ্রীতিকর আচরণের অভিযোগ উঠলে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।

ময়দানের আটটি প্রবেশপথের মধ্যে একটি ফটক কেবল রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সমাবেশ উপলক্ষে আসা যানবাহনের জন্য রাজঘাট ও মাতা সুন্দরী কলেজের আশপাশে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে; সেখান থেকে হেঁটে বিক্ষোভকারীদের রামলীলা ময়দানে পৌঁছাতে হবে।

সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ