দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইয়াহমার আল-শাকিফ এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের আরও দুটি শহরে কামানের গোলাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াহমার আল-শাকিফ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ছাড়া জুতার আল-শারকিয়া ও মাইফদুন শহরেও কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
তবে এসব ঘটনায় নতুন করে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটির বেশ কিছু এলাকা এখনো ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গ্রামে বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়াহমার আল-শাকিফ এবং এর আশপাশের এলাকায় স্থাপনা ভাঙচুর ও ভূমি সমতল করার কার্যক্রমের খবর প্রকাশ করেছে লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
এসব সামরিক তৎপরতার মধ্যেই নতুন করে বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণের খবর এলো।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত ও সামরিক অভিযানের কারণে দক্ষিণ লেবাননের ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর রয়েছে। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রোববারের বিস্ফোরণ এবং জুতার আল-শারকিয়া ও মাইফদুনে গোলাবর্ষণের ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া এসব নির্দিষ্ট অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো বক্তব্য সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেলেও সর্বশেষ ঘটনাগুলোয় প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে আরও নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র : আল জাজিরা।
মন্তব্যসমূহ