নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তারাবা রাজ্যের একটি গ্রামে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি। হামলাকারীরা গ্রামটির বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালানোর পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর তারাবা রাজ্যের কারিম লামিদো এলাকার বিনারি গ্রামে এ হামলা চালানো হয়। মোটরসাইকেলে করে আসা বন্দুকধারীরা প্রায় চার ঘণ্টা ধরে গ্রামটিতে তাণ্ডব চালায় বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি।
হামলার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তারাবা রাজ্য পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর মশেলিজা জানিয়েছেন, হামলার পর গ্রামটিতে নিরাপত্তা টহল শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের এলাকায় হতাহতদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশের প্রাথমিক হিসাবে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ফলে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী বিনারি গ্রামে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।
হামলার সময় আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করেন। বন্দুকধারীরা বিভিন্ন দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে।
এ ছাড়া গ্রামটির কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
হামলা শেষ হওয়ার পর স্থানীয়রা হতাহতদের খোঁজ শুরু করেন। গ্রামসংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আরও হতাহত ব্যক্তি থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চলছে। এলাকায় নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে নিরাপত্তা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
তবে হামলাকারীরা কোন সংগঠন বা গোষ্ঠীর সদস্য, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে। এসব এলাকায় গ্রামে হামলা, লুটপাট ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
পাশাপাশি দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দুই দশক ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে।
বিনারি গ্রামের সর্বশেষ হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাওয়ায় উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমের পর প্রকৃত প্রাণহানির হিসাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি
মন্তব্যসমূহ