ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সংসদে নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর, উচ্চকক্ষের ছয় বছর করার প্রস্তাব

সংসদে নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর, উচ্চকক্ষের ছয় বছর করার প্রস্তাব
ফাইল ছবি
ফলো করুন

জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সংসদের দুই কক্ষের কাঠামো ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। বৈঠকে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ ও গঠন, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ প্রস্তাব করেন, নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হলেও উচ্চকক্ষ বহাল রাখা যেতে পারে। তাঁদের মতে, এ ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়েও মত দেন কেউ কেউ। একইভাবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে।

উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়েও একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা। বাকি ৫০টি আসন নিম্নকক্ষে দলগুলোর পাওয়া আসনের অনুপাতে বণ্টনের প্রস্তাবও দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বৈঠকে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উচ্চকক্ষ গঠনের পরিবর্তে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ফলে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত পর্যালোচনার পর এসব বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ট্যাগ : জাতীয় সংসদ সংবিধান সংশোধন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


সংসদে নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর, উচ্চকক্ষের ছয় বছর করার প্রস্তাব

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা উচ্চকক্ষ থেকে নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে সংসদের দুই কক্ষের কাঠামো ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব উঠে আসে। বৈঠকে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ ও গঠন, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ প্রস্তাব করেন, নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হলেও উচ্চকক্ষ বহাল রাখা যেতে পারে। তাঁদের মতে, এ ব্যবস্থা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় উচ্চকক্ষকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়েও মত দেন কেউ কেউ। একইভাবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে।

উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়েও একাধিক প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা। বাকি ৫০টি আসন নিম্নকক্ষে দলগুলোর পাওয়া আসনের অনুপাতে বণ্টনের প্রস্তাবও দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

সংবিধান সংশোধনের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বৈঠকে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উচ্চকক্ষ গঠনের পরিবর্তে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

ফলে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে এখনো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত পর্যালোচনার পর এসব বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ