ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন, তা নির্ধারণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আরও চার বছর ক্ষমতায় থাকবেন, নাকি ফ্লাভিও বলসোনারোর হাত ধরে দেশটির ডানপন্থিরা ক্ষমতায় ফিরবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই নির্বাচনে।
প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি। তবে বামপন্থি লুলাকে সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছিলেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতেও দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
৮০ বছর বয়সী লুলার জন্য এটিই শেষ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলে জানানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাঁর বয়স হবে ৮১ বছর।
প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর নেতৃত্বাধীন বামপন্থি শিবির নির্বাচনী প্রচার আরও জোরদার করে। বিভিন্ন স্থানে বড় সমাবেশের আয়োজন করে সমর্থকদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালানো হয়।
এসব সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শাসনামলের নানা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন লুলার সমর্থকেরা। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা, আমাজন বনাঞ্চলের ক্ষতি এবং সরকারি সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর বিষয়গুলো সামনে আনা হয়।
চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লুলা।
নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের স্বার্থ রক্ষাকারী নেতা হিসেবেও তুলে ধরেছেন।
লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে।
ক্ষমতায় গেলে অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছেন ফ্লাভিও।
নির্বাচনী প্রচারে ব্রাজিলকে ‘যিশুখ্রিষ্টের হাতে’ তুলে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাঁর এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারের অংশ হয়ে উঠেছে।
ফ্লাভিও নিজেকে বাবার তুলনায় অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থানে বলসোনারো পরিবারের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাইর বলসোনারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। যদিও এই নির্বাচনে ট্রাম্প এখনো ফ্লাভিওকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি।
ফ্লাভিও জয়ী হলে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ব্রাজিলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আবার ডানপন্থিদের হাতে যাবে।
ব্রাজিলের ভোটারদের একাংশ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন চাইছেন।
৬৭ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এদুয়ার্দো ভিয়ানা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এটি পরিবর্তনের প্রশ্ন। সেই পুরোনো বিষয় আর কত?’
লুলার অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘লুলার দাবি তিনি গরিবদের জন্য দেশ চালান। অথচ, মানুষ সুপারমার্কেটেও যেতে পারছে না।’
জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি খরচ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবারের নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ব্রাজিলে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। সেই নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।
নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় পরে তাঁর ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় সাজা ভোগ করছেন।
এবার তাঁর ছেলে ফ্লাভিও ডানপন্থিদের নেতৃত্ব দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফলে এবারের ভোট শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিযোগিতা নয়; ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় এখন ব্রাজিলের ভোটাররা।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্যসমূহ