ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান নিয়ে সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প

ইরান নিয়ে সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তাদের ভাষায়, এসব বিকল্প যুদ্ধ ‘শেষ করার’ লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প মনে করছেন, এখনই বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা ভেঙে দেওয়ার আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনা আগামী ১৮ আগস্টের ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে সাময়িক চুক্তির শর্ত তেহরান লঙ্ঘন করলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালানোর নীতিতে তিনি আপাতত সন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে চুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে। তেহরান জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে আসা শীর্ষ মার্কিন দূতদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণের মতো কঠিন বিষয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষকে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। প্রাথমিক রূপরেখায় আর্থিক প্রণোদনার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে।

তবে ইরান বলছে, ওমানের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় তাদেরও অধিকার রয়েছে। ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেখানে টোল বা ফি আদায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে। তার দাবি, এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীন।

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক এই জলপথে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে দেওয়া হবে না, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরান নিয়ে সামরিক বিকল্প পর্যালোচনা করছেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তাদের ভাষায়, এসব বিকল্প যুদ্ধ ‘শেষ করার’ লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্প মনে করছেন, এখনই বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত বা ভেঙে দেওয়ার আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তার আশঙ্কা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনা আগামী ১৮ আগস্টের ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে সাময়িক চুক্তির শর্ত তেহরান লঙ্ঘন করলে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত হামলা চালানোর নীতিতে তিনি আপাতত সন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে চুক্তির সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থানের কারণে। তেহরান জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে আসা শীর্ষ মার্কিন দূতদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে না।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণের মতো কঠিন বিষয়ে আলোচনার আগে দুই পক্ষকে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সম্ভাব্য সমঝোতার মূল বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। প্রাথমিক রূপরেখায় আর্থিক প্রণোদনার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে এই জলপথে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে।

তবে ইরান বলছে, ওমানের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় তাদেরও অধিকার রয়েছে। ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেখানে টোল বা ফি আদায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের হাতে। তার দাবি, এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থার অধীন।

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিক এই জলপথে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে দেওয়া হবে না, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ