ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আফ্রিকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়লে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা জাতিসংঘের

আফ্রিকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়লে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা জাতিসংঘের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মহাদেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সতর্কতা অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তিন লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ও পরীক্ষিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উগান্ডায়ও অল্পসংখ্যক সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাইরাসটি দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তা না হলে এটি পুরো অঞ্চল, এমনকি আফ্রিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংকটে রূপ নিতে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে অনুকূল অবস্থায় সংক্রমণ ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ডিআর কঙ্গোর মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ইবোলা যদি রুয়ান্ডা, অ্যাঙ্গোলাসহ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সময়ে ইরান সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে, তাহলে আফ্রিকার অর্থনীতিতে ক্ষতি ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাসের কারণে নিরাপদ দাফন কার্যক্রম পরিচালনাতেও ত্রাণকর্মীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গো সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগ : উগান্ডা জাতিসংঘ আফ্রিকা ইবোলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আফ্রিকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়লে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা জাতিসংঘের

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

আফ্রিকায় চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে মহাদেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সতর্কতা অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ক্ষতির পরিমাণ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তিন লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসের ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের বর্তমান প্রাদুর্ভাব বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ও পরীক্ষিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৩০৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উগান্ডায়ও অল্পসংখ্যক সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাইরাসটি দক্ষিণ সুদানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি ড্যামিয়েন মামা বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তা না হলে এটি পুরো অঞ্চল, এমনকি আফ্রিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সংকটে রূপ নিতে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতিবেদনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে অনুকূল অবস্থায় সংক্রমণ ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ডিআর কঙ্গোর মোট দেশজ উৎপাদনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ইবোলা যদি রুয়ান্ডা, অ্যাঙ্গোলাসহ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একই সময়ে ইরান সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকে, তাহলে আফ্রিকার অর্থনীতিতে ক্ষতি ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ ইতুরি প্রদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় মানুষের অবিশ্বাসের কারণে নিরাপদ দাফন কার্যক্রম পরিচালনাতেও ত্রাণকর্মীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিআর কঙ্গো সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত বিক্ষোভের আগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধী দলগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ