দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। এবার প্রথমবারের মতো দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। তবে সারা দেশে একই প্রশ্নে পরীক্ষা আয়োজন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষা নির্বিঘ্নে শেষ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে অংশ নিচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন।
সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি ঢাকায়।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম, শৌচাগার তল্লাশি ও কেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ ৩৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পরে নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের ঘটনা ধরা পড়লে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ