লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ঘাতক অন্তর মজুমদার সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না।
মঙ্গলবার রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইন কমিটির মাসিক সভায় এসব তথ্য জানান ওসি শাহীন মিয়া।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রায়পুরের ধানহাটা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় এক মেয়েকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন অন্তর মজুমদার। তারা দুজনই নামাজ পড়তেন। অন্তরের মাথায় টুপি থাকত এবং মেয়েটিও মাঝে মাঝে বোরকা পরতেন।
ওসি বলেন, তবে অন্তর ছিলেন মাদকাসক্ত। ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রির আড়ালে তিনি মাদক সেবন করতেন। মাদকের কারণেই হয়তো মা ও তিন মেয়েকে ধারাল ছেনি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
শাহীন মিয়া আরও বলেন, প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে অন্তর মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি বাড়িতে বাবা-মাকে মারধর করতেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করতেন। তার আচরণ ভালো না হওয়ায় তিনি পরিবার ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত হন।
ওসি জানান, ফেনী শহরে একটি ফলের দোকানে কাজ করার সময় দোকানমালিকের টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে অন্তরের বিরুদ্ধে। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হলে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বাবা-মা তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
তিনি আরও বলেন, অন্তর রায়পুরে দুই মাস বাসা ভাড়া নিয়ে থাকলেও ভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা তাকে বাসা থেকে বের করে দেন।
গত ২৫ জুন সকালে বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার, নাফিসা আক্তার ইকরা ও ফাতেমা আক্তার সিপাকে ধারাল ছেনি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন অন্তর। পরে ভবনের ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়।
ওসি শাহীন মিয়া বলেন, মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
সভায় রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার ভূমি নিগার সুলতানা, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ পলাশ, কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ