ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করে অর্থবিল পাস

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করে অর্থবিল পাস
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাস হয়েছে। বিলটি পাসের সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার অন্যতম।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিল-২০২৬ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুপারিশ অনুযায়ী কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অর্থবিল অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতারা বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগের মতো টিআইএন ছাড়াই নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধানও বাতিল করা হয়েছে।

জমির প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে প্রস্তাবিত বিশেষ বিধানটিও সমালোচনার মুখে অর্থবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর করভার কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে প্রচারিত ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে উৎসে ৫০ পয়সা হারে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশীয় শিল্পকে সহায়তা দিতে চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাস হওয়া অর্থবিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ নিয়েও নতুন বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতি অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া নির্ধারিত মূলধন বা বার্ষিক বিক্রয় সীমা অতিক্রমকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসংঘের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ট্যাগ : অর্থনীতি এনবিআর জাতীয় সংসদ কর আয়কর বিভাগ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করে অর্থবিল পাস

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাস হয়েছে। বিলটি পাসের সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার অন্যতম।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিল-২০২৬ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুপারিশ অনুযায়ী কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অর্থবিল অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতারা বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগের মতো টিআইএন ছাড়াই নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধানও বাতিল করা হয়েছে।

জমির প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে প্রস্তাবিত বিশেষ বিধানটিও সমালোচনার মুখে অর্থবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর করভার কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে প্রচারিত ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে উৎসে ৫০ পয়সা হারে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশীয় শিল্পকে সহায়তা দিতে চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাস হওয়া অর্থবিলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ বিতরণ নিয়েও নতুন বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতি অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া নির্ধারিত মূলধন বা বার্ষিক বিক্রয় সীমা অতিক্রমকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসংঘের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ