জাতীয় সঞ্চয়পত্র এখন থেকে কর পরিশোধের ক্ষেত্রে আগের মতো আর একটি স্থায়ী কর ছাড় দেয় না। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৬-২৭ থেকে এই সঞ্চয়পত্রের সুদের আয়ের উৎস থেকে কর্তিত করকে পূর্ণপূর্বক আগাম কর হিসেবে গণ্য করা হবে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই নতুন নিয়ম প্রবর্তন করেছে, যার ফলে স্থায়ী কর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতটি ছিলো না। এর ফলে যারা অতিরিক্ত কর করেছেন, তারা সরাসরি কর প্রত্যর্পণ দাবি করতে পারবেন, আর উচ্চ আয়ের ব্যক্তিরা তাদের কর বোঝা বেড়ে যাওয়া দেখতে পাবেন কারণ কর বিনিয়োগ ছাড়ের পরিমাণও কমানো হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2165]নতুন কর কাঠামোর মূল বিষয় হলো, কর কর্তনের পরিমাণ এখন এগিয়ে নেওয়া কর হিসেবে গণ্য হবে এবং ট্যাক্সদাতার কর রিটার্নে চাহিদাপত্র উপস্থাপন করা হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী যদি পুরো বছরে ৩০,০০০ টাকা কর উৎসে কর্তিত হয়, তবে তার প্রকৃত কর দায় ২০,০০০ টাকা হলে বাকি ১০,০০০ টাকা ফেরত পাবেন। তবে কর প্রত্যর্পণের জন্য রিটার্ন জমার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট নম্বর ভেরিফাই করতে হবে।স্বাধীন জেলা ও ব্যুরো অফিসে উৎস কর কর্তনের প্রত্যয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে যা কর রিটার্নের সময় জমা দিতে হবে।ধরাবাহী সুদের হার ১১.৭৭% থেকে ১১.৯৮% পর্যন্ত একই রাখা হলেও, নতুন কর ব্যবস্থাপনার ফলে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারী, অল্প আয়ের কর্মজীবী ও অবসরে যেসব মানুষ আছেন, তারা উপকৃত হবেন। কর ফ্রি সীমার নিচে আয় যারা অর্জন করেন, তারা এখন আগের ৫% বা ১০% কর কাটা রাশি ফেরত পেতে পারবেন যদি তাদের টিআইএন থাকে এবং তারা রিটার্ন দাখিল করেন।অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের ট্যাক্সপেয়ারদের জন্য করের উপস্থিতি কঠোর হয়েছে। পূর্বে তারা ১০% কর উৎসে কর্তন করলেও এখন ওই সুদের আয় তাদের উচ্চ কর হারে যোগ করা হবে, যার ফলে বছরের শেষে বড় কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হবে।তাছাড়া বিনিয়োগ কর ছাড়ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। জীবন বীমা ও ডিপোজিট পেনশন স্কিমের মতো কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলেও সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সীমা সাড়ে সাত লাখ টাকা করা হয়েছে এবং কর ছাড়ের হার ১৫% থেকে ১০% করা হয়েছে।এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কর প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করলেও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কর সুবিধা পূর্বের তুলনায় অনেক কমিয়ে দিয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2160]অপরদিকে, এনবিআর এর ডিজিটাল রিটার্ন সিস্টেম সম্প্রসারণের কাজ চলছে। আগের বছর থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য অনলাইন ফাইলিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, এখন সকল ব্যক্তি করদাতাদের জন্য এই সেবা জুলাই মাসের শেষের দিক থেকে চালু হবে। কর ফাইলিং প্রক্রিয়া উন্নত করতে বিভিন্ন রিটার্ন দাখিল সময়সীমা ও প্রণোদনার কৌশল প্রয়োগ করা হবে।