ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রাইভেট কারের চাপায় মার্কেটিং বিভাগের ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ছেলে গাড়ি চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গাড়ি তুলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনায় গাড়িচালক হিসেবে অভিযুক্ত সাদমান সাকিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে। অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে বাবার প্রাইভেট কার নিয়ে একাই ক্যাম্পাসে গাড়ি চালানো শিখতে বের হন সাদমান সাকিব। ওই দিনই প্রথমবারের মতো গাড়ি চালানো শিখছিলেন বলে জানা গেছে।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চালানোর একপর্যায়ে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। এ সময় সড়কে থাকা মার্কেটিং বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িটি উঠে গেলে ছয়জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর সাদমান সাকিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রক্টরিয়াল টিমের হেফাজতে রয়েছেন।
এদিকে সহপাঠীদের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
অভিযুক্ত চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রক্টর কার্যালয়ের আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে।
তবে আহত ছয় শিক্ষার্থীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং দুর্ঘটনার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্যসমূহ