শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১১৯টি পূজামণ্ডপে সরকারি চালের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এবার প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে মোট ৭১ টন ৪০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে মাধবপুর উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের পরিদর্শনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল।
তিনি জানান, আগে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বরাদ্দ এবং আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন সংসদ সদস্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করেন।
তিনি জানান, বিএনপি সরকার সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
সংসদ সদস্য বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাধবপুর ও চুনারুঘাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার।’
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে দুর্গাপূজা চলাকালে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার পরামর্শ দেন সংসদ সদস্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়, মাধবপুর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক হীরেশ ভট্টাচার্য।
এ ছাড়া স্বপন রায়, অঞ্জন বনিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল ইসলাম কামা কামাল, চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ, পৌর বিএনপির সভাপতি গোলাপ কাল, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি, সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মানিক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ এবং যুবদলের আহ্বায়ক কবির খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন কমিটির অন্যান্য নেতা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
তবে চুনারুঘাট উপজেলায় কতটি পূজামণ্ডপের জন্য কী পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ