ইংলিশ ফুটবলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচকে কেন্দ্র করে অ্যানফিল্ড স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১০ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ কর্মকর্তা মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
রোববার অ্যানফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচ ঘিরে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইড পুলিশ।
ম্যাচের আগে থেকেই স্টেডিয়ামের বাইরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কয়েক শ সমর্থক অ্যানফিল্ডের সামনে জড়ো হওয়ায় ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসটি পেছনের প্রবেশপথ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে ঢোকে।
মাঠের ভেতরেও উত্তেজনার প্রকাশ ঘটে। বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শনের পাশাপাশি সিটির খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ স্লোগান ও দুয়োধ্বনি দেন সমর্থকদের একাংশ।
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করার রায়ের পর লিভারপুলের মাঠে এটিই ছিল দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।
মার্সিসাইড পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অতীতের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া একজনকে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর দুটি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। মাতাল অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও একজন।
মারামারি ও সহিংস বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুজন এবং মাঠে অস্বাভাবিক কোনো বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে অ্যানফিল্ড রোডে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা মুখে গুরুতর আঘাত পান।
ওই সময় স্টেডিয়াম থেকে সমর্থকেরা বের হচ্ছিলেন। আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ফুটবল ম্যাচে অতীতের ট্র্যাজেডি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান জানিয়েছে মার্সিসাইড পুলিশ।
পুলিশের প্রধান পরিদর্শক লিন হোবিন বলেন, এ ধরনের স্লোগান অতীতের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্বজনদের গভীরভাবে আঘাত করে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট ফুটবল ক্লাবগুলোর সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো অন্য সমর্থকদের জন্য সতর্কবার্তা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লিন হোবিন আরও সতর্ক করেন, এ ধরনের আচরণে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আপত্তিকর স্লোগান ও পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়ার ঘটনায় সমর্থকদের আচরণ এবং স্টেডিয়ামের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মন্তব্যসমূহ