ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বকেয়া বিল ও জ্বালানি সংকটে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

বকেয়া বিল ও জ্বালানি সংকটে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

দেশে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। সক্ষমতা থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ার বড় কারণ হিসেবে অর্থ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় বাধা এখন অর্থ সংকট। পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র ৭ থেকে ৮ মাসের বিল পায়নি। ফলে জ্বালানি তেল কিনে কেন্দ্র চালু রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরকারকে সহায়তা করে দেশকে লোডশেডিংমুক্ত করতে চায়। তবে এজন্য বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া টাকা না পেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেল কেনা সম্ভব নয়।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে ৪৩টি ছোট-বড় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রের তেলের মজুত একেবারেই শেষ। অনেক কেন্দ্রেও ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি তেল নেই।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও রোববার বেলা ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩ মেগাওয়াট।

জানা গেছে, বকেয়া বিলের কারণে ময়মনসিংহে ইউনাইটেড গ্রুপের দুটি তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকেও পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। পিডিবির কাছে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট টিউবের সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। নরেনকো ও এসএস পাওয়ারের মতো বড় কেন্দ্রগুলো থেকেও বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার বেলা ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১১১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আগের তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও শিল্প খাতসহ অন্যান্য খাতেও গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ফলে জ্বালানি বরাদ্দে ভারসাম্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেই সংকট দূর হয় না। সময়মতো বিল পরিশোধ, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর কারিগরি সক্ষমতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অকার্যকর থেকে যায়।

ট্যাগ : বিদ্যুৎ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি গ্যাস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বকেয়া বিল ও জ্বালানি সংকটে কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

দেশে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। সক্ষমতা থাকার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ার বড় কারণ হিসেবে অর্থ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতিকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় বাধা এখন অর্থ সংকট। পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পাওনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র ৭ থেকে ৮ মাসের বিল পায়নি। ফলে জ্বালানি তেল কিনে কেন্দ্র চালু রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরকারকে সহায়তা করে দেশকে লোডশেডিংমুক্ত করতে চায়। তবে এজন্য বকেয়া বিল পরিশোধ করতে হবে। বকেয়া টাকা না পেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তেল কেনা সম্ভব নয়।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতে ৪৩টি ছোট-বড় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রের তেলের মজুত একেবারেই শেষ। অনেক কেন্দ্রেও ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি তেল নেই।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও রোববার বেলা ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩ মেগাওয়াট।

জানা গেছে, বকেয়া বিলের কারণে ময়মনসিংহে ইউনাইটেড গ্রুপের দুটি তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকেও পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। পিডিবির কাছে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট টিউবের সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। নরেনকো ও এসএস পাওয়ারের মতো বড় কেন্দ্রগুলো থেকেও বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু রোববার বেলা ১১টায় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ১১১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আগের তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও শিল্প খাতসহ অন্যান্য খাতেও গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ফলে জ্বালানি বরাদ্দে ভারসাম্য রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেই সংকট দূর হয় না। সময়মতো বিল পরিশোধ, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর কারিগরি সক্ষমতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অকার্যকর থেকে যায়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ