ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য, ইসকনের কলকাতা মুখপাত্রকে অব্যাহতি

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য, ইসকনের কলকাতা মুখপাত্রকে অব্যাহতি
রাধারমণ দাস। ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

কলকাতায় ইসকনের সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁকে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনসম্মুখের কোনো প্ল্যাটফর্মে সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করা।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন রাধারমণ দাস। একই সঙ্গে তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এই বিষয়ে রাধারমণ দাস বলেন, গত কয়েক বছরে তাঁকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি ইসকনের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সাফল্য কামনা করেন। গত রোববারই এক বিবৃতিতে রাধারমণ দাস দাবি করেন, তাঁর অপসারণের পেছনে ছয়টি নির্দিষ্ট পদক্ষেপকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ মে রিপাবলিক টিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়েরের ঘটনা। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৭৬ সালের নিউইয়র্ক রথযাত্রার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ইসকন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মূলত বাংলাদেশে আলোচিত ওই সন্ন্যাসীকে ঘিরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে নিরামিষভিত্তিক মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্পের পক্ষে ইসকনের সবচেয়ে সক্রিয় জনমুখ হিসেবে উঠে আসেন রাধারমণ দাস। কলকাতায় ইসকনের প্রস্তুত করা খাবার চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে খাবারের তালিকায় ডিম না রাখার কারণে। এ বিষয়ে রাধারমণ দাস বলেছিলেন, সয়া চাঙ্কস, রাজমা, পনির ও ছোলা শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি ইসকনের স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

খাবারের পুষ্টিমান নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসকন বিশ্বজুড়ে বাঙালি থালি পরিবেশন করে। তাই শুধু ডিম বা মাংস থাকলেই একটি বাঙালি থালি পূর্ণ হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। মেনুতে ভাত, ডাল, খিচুড়ি ও সবজি থাকবে এবং সয়া চাঙ্কস ও রাজমার মতো খাবারেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে।

তবে ইসকনের ব্যবস্থাপনা সূত্রের দাবি, ডিম ও সয়াবিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তুলনা করে রাধারমণ দাস যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা অনুমোদিত ছিল না। সংস্থাটির অবস্থান ছিল, সাত্ত্বিক খাদ্য নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ট্যাগ : ভারত বাংলাদেশ কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ইসকন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য, ইসকনের কলকাতা মুখপাত্রকে অব্যাহতি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

কলকাতায় ইসকনের সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার নেওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁকে গণমাধ্যম, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং জনসম্মুখের কোনো প্ল্যাটফর্মে সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো—বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য করা।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন রাধারমণ দাস। একই সঙ্গে তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এই বিষয়ে রাধারমণ দাস বলেন, গত কয়েক বছরে তাঁকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি ইসকনের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সাফল্য কামনা করেন। গত রোববারই এক বিবৃতিতে রাধারমণ দাস দাবি করেন, তাঁর অপসারণের পেছনে ছয়টি নির্দিষ্ট পদক্ষেপকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর প্রতি সমর্থন জানানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ মে রিপাবলিক টিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো এবং কৌতুকশিল্পী সুরলিন কৌরের বিরুদ্ধে সাইবার অভিযোগ দায়েরের ঘটনা। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে সনাতন ধর্মের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৭৬ সালের নিউইয়র্ক রথযাত্রার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে ইসকন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মূলত বাংলাদেশে আলোচিত ওই সন্ন্যাসীকে ঘিরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে নিরামিষভিত্তিক মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির একটি পাইলট প্রকল্পের পক্ষে ইসকনের সবচেয়ে সক্রিয় জনমুখ হিসেবে উঠে আসেন রাধারমণ দাস। কলকাতায় ইসকনের প্রস্তুত করা খাবার চালুর বিষয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, বিশেষ করে খাবারের তালিকায় ডিম না রাখার কারণে। এ বিষয়ে রাধারমণ দাস বলেছিলেন, সয়া চাঙ্কস, রাজমা, পনির ও ছোলা শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি ইসকনের স্বয়ংক্রিয় রান্নাঘর ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

খাবারের পুষ্টিমান নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসকন বিশ্বজুড়ে বাঙালি থালি পরিবেশন করে। তাই শুধু ডিম বা মাংস থাকলেই একটি বাঙালি থালি পূর্ণ হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। মেনুতে ভাত, ডাল, খিচুড়ি ও সবজি থাকবে এবং সয়া চাঙ্কস ও রাজমার মতো খাবারেও উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে।

তবে ইসকনের ব্যবস্থাপনা সূত্রের দাবি, ডিম ও সয়াবিনের মধ্যে প্রকাশ্যে তুলনা করে রাধারমণ দাস যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা অনুমোদিত ছিল না। সংস্থাটির অবস্থান ছিল, সাত্ত্বিক খাদ্য নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ