ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

লাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

১২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ এসব তথ্য জানান। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন।

মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। ওই সময় তাকে জানানো হয়, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর বিটিআরসির মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

মাহদী আরও বলেন, ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট বন্ধের একই ধরনের নির্দেশনা আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ নির্দেশও জুনাইদ আহমেদ পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলেন। পরে চেয়ারম্যান মহাপরিচালককে এবং মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দেন।

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ আরও জানান, ১৬ জুলাই এ বিষয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে অংশ নেন। ওই দিন নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে তৈরি নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এরপর ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে আরেকটি সভা হয়। সেখানে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সভায় পলক চারটি মোবাইল অপারেটরের ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ৩১ জুলাই এসব ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশও জুনাইদ আহমেদ পলক দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন বিটিআরসির এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ : জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জুনাইদ আহমেদ পলক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

লাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দিয়েছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

১২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ এসব তথ্য জানান। তিনি গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন।

মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। ওই সময় তাকে জানানো হয়, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

তার জবানবন্দি অনুযায়ী, এরপর বিটিআরসির মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

মাহদী আরও বলেন, ১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট বন্ধের একই ধরনের নির্দেশনা আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ নির্দেশও জুনাইদ আহমেদ পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে দিয়েছিলেন। পরে চেয়ারম্যান মহাপরিচালককে এবং মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা দেন।

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ আরও জানান, ১৬ জুলাই এ বিষয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে অংশ নেন। ওই দিন নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে তৈরি নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এরপর ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে আরেকটি সভা হয়। সেখানে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সভায় পলক চারটি মোবাইল অপারেটরের ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ৩১ জুলাই এসব ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশও জুনাইদ আহমেদ পলক দেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন বিটিআরসির এই কর্মকর্তা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ