ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আদালতে পলকের প্রশ্ন, ‘লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে হাতকড়া ও সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে পলক এসব কথা বলেন।আদালতে পলক বলেন, “হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”পরে তিনি বলেন, “যেহেতু ৬ তলা পর্যন্ত হেটে উঠানো হয় মানবিক দিক বিবেচনা করে আমাদের হ্যান্ডকাফ সামনে পরানো হোক।”রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক আরও বলেন, “পিপির সাহেবের বোঝা উচিত, তার সেই স্থান থেকে আমার এই স্থান বেশি দূরে নয়।”আদালত থেকে নামার সময়ও লিফট ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পলক বলেন, “লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?”পলকের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, আদালতে আনার সময় লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও পলককে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি লিফটের মধ্যে একটি চালু থাকলেও তাদের হেঁটে নামানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, তাদের হাতে ঝং ধরা হ্যান্ডকাফ এবং বুলেট প্রুফ জ্যাকেটও খুব নোংরা। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এসব বিষয় বিবেচনার দাবি জানান তিনি।সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, এ মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে হাজির করতে পারেনি। এ কারণে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কারাগারে থাকা আটজনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলায় মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং বাকি ২০ জন শুরু থেকেই পলাতক।মামলাটি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় নিহত ট্রাকচালক মো. হোসেনকে কেন্দ্র করে করা হয়। ওই দিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান।এ ছাড়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেলও মামলার আসামি।আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাহজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।

আদালতে পলকের প্রশ্ন, ‘লিফট কি শুধু আমাদের জন্য বন্ধ?’