২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তৎকালীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে। একই দিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জনগণের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়।সেদিন সেনা সদরদপ্তরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানান, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সব সময় মানুষের পাশে থাকবে।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সে সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছিল।[BANGVIEWS-POST:3041]এর আগে ওই দিন সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান এবং সংঘাত এড়াতে তাদের বক্তব্য শুনতে চান বলে জানান।তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ থেকে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এক দফা দাবি ঘোষণা করেন।ঘোষণায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের পদত্যাগ এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রাণহানি, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার বিচার দাবি করা হয়।সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শহীদ মিনারে জড়ো হন। সমাবেশস্থল ও আশপাশের সড়ক সরকারবিরোধী এবং বিচার দাবির স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।[BANGVIEWS-POST:3040]একই সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও বলেন, আন্দোলনটি আর শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে।রাজধানীর পাশাপাশি কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, অবরোধ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ওই দিনে সেনাপ্রধানের জনগণের পাশে থাকার বক্তব্য এবং শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণাকে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ দুই বার্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।