ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের মধ্যে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় দিল্লি পুলিশ কমিশনারের প্রতিরোধমূলক আটকের ক্ষমতা আরও তিন মাসের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই ক্ষমতা গত ১৯ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা আইন-১৯৮০-এর ধারা ৩(৩)-এর অধীনে দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে একই ধারার উপধারা ৩(২) অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক আটকের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2375]এনএসএর অধীনে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা অথবা জনগণের জন্য অপরিহার্য পণ্য ও সেবার সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় কোনো ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা যায়।সিজেপির আন্দোলন চলাকালে এই ক্ষমতা নবায়ন হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের দমনের উদ্দেশ্যে নতুন করে দিল্লি পুলিশকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।তবে দিল্লি পুলিশ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, এটি নতুন কোনো ক্ষমতা নয়; প্রতি তিন মাস পরপর নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর মেয়াদ নবায়ন করা হয়।পুলিশের দাবি, বর্তমান নবায়নের সিদ্ধান্ত ৭ জুলাই নেওয়া হয়েছিল। পরে ১৫ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সাম্প্রতিক ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির আগে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল এবং চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বিশেষ অনুরোধ করা হয়নি।তবে সিজেপি যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন ২০ জুন শুরু করেছে। ফলে নবায়নের সিদ্ধান্ত পুরো আন্দোলন শুরুর আগে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়; বরং ২০ জুলাইয়ের বড় সংসদ অভিমুখী কর্মসূচির আগে নেওয়া হয়েছিল।এআইএমআইএম সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণেরা কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারেন।তিনি বলেন, একদিকে সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচার করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিচ্ছে; অন্যদিকে এনএসএর আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে আটকের ক্ষমতা বহাল রাখছে।[BANGVIEWS-POST:2372]এনএসএর অধীনে আটক কোনো সাধারণ ফৌজদারি গ্রেপ্তার নয়। ফলে আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার সাধারণ নিয়মটি এখানে প্রযোজ্য হয় না। তবে আটক ব্যক্তিকে কারণ জানানো, সরকারের অনুমোদন এবং উপদেষ্টা বোর্ডের পর্যালোচনাসহ আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। নিশ্চিত হওয়া আটকাদেশে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত কাউকে আটক রাখা যেতে পারে; সরকার চাইলে আগেই তা প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে পারে।এখন পর্যন্ত সিজেপির কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এই নবায়িত ক্ষমতায় এনএসএ প্রয়োগ করা হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।