দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির ঘাটতি, বকেয়া বিল পরিশোধে জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমন তথ্য তুলে ধরেছে জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট।
একইভাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদিত হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।
অন্যদিকে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের এই ব্যবধানের পেছনে জ্বালানি সংকট এবং বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হয়।
জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যারা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তারা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা করে পাবেন। এই সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বর্তমানে রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট কত পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন ও অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ৪১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়ন বা জিওবি খাত থেকে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অর্থায়নের তথ্য তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কয়েকটি বিষয়ে লিখিত প্রশ্নসংবলিত নথি উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রশ্নের উত্তরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী বৈঠকে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিটির প্রথম বৈঠকে অংশ নেন সদস্য ও মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, রফিকুল ইসলাম হিলালী, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মমতাজ আলো, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মো. আবুল হাসনাত।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে সংসদ সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়ের উপস্থিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ