নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা সম্ভব।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজবাড়ী শহরের নান্নু টাওয়ারের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক যুব সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোনাকান্দর ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের উদ্যোগে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিভিন্ন নেতিবাচক ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। এসব ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার চর্চা বাড়াতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি যুবসমাজ। তরুণদের মধ্যে অধিকার ও সমতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা গেলে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে শুধু তরুণদের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির নেতাদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাস্তব উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দৈনন্দিন জীবনেও এসব মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
তার মতে, তরুণদের দায়িত্বশীল আচরণ, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সোনাকান্দর ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের সভাপতি হুমাইয়া আক্তার রিনথীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শংকর চন্দ্র বৈদ্য এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।
এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক চায়না ব্যানার্জী এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি ও আল্লা নেওয়াজ খায়রু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী আহসান হাবীব বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সোনাকান্দর ডেভেলপমেন্ট ক্লাবের উপদেষ্টা ও আল্লা নেওয়াজ খায়রু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা জাহান মিনি। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তাহসিন মুগ্ধ।
সংলাপে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নারী-পুরুষের সমতা, সামাজিক অধিকার ও বৈষম্য বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত তুলে ধরেন। এতে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের সংলাপের উদ্দেশ্য তরুণদের মধ্যে সমতা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। একই সঙ্গে সামাজিক বৈষম্য দূর করতে যুবসমাজকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ