সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। তিনি জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান, ই-ট্র্যাকার ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনাবিষয়ক এ কর্মশালায় দেশের চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ডেঙ্গুর অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরবর্তী ২০২০ ও ২০২১ সালেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ড. এম. এ. মুহিত জানান, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। তবে রাজশাহী বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা কম।
তিনি বলেন, এখনো মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হতো। কিন্তু এবার সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন মাস আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় দুই হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের ফলে অতীতের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুহার কমেছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। হামের বর্তমান প্রকোপের জন্য বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকাদান না হওয়ার বিষয়টিকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাম করোনার চেয়েও বেশি সংক্রামক। একবার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সরকারের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশের দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও তথ্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
তবে রোগীর সংখ্যার তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সংকট মোকাবিলায় নতুন করে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত ছয় মাসে চিকিৎসক, নার্স এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে।
মন্তব্যসমূহ