ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকের তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার পরও সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধমূলক আটক অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১টা থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে আসতে শুরু করেন। তবে আগেই নিরাপত্তা জোরদার করায় অনেককে কর্মসূচিস্থলে পৌঁছানোর আগে আটক করা হয়।
পুলিশ দিল্লির বিভিন্ন সড়কে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি যন্তর মন্তরের উদ্দেশে যাওয়া বাসগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সংগঠনের নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিংয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ কাব্য কর্ণাটককে আটকের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
আটক রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম রয়েছে।
একই সঙ্গে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে আটকের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, এমভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল ও বৃন্দা কারাতকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে দিল্লির বাইরে মুম্বাইয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র এবং ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি তুষার গান্ধীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়াদিল্লি জেলাকে ২০টি পৃথক অপারেশনাল জোনে ভাগ করেছে পুলিশ। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা আটক কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন স্টেডিয়ামকেও সাময়িক আটক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। আটক বিক্ষোভকারীদের এসব স্থানে রাখা হচ্ছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। এএনআইয়ের একটি প্রতিবেদনে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকের কথা বলা হলেও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঁচ হাজার জনকে আটকের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব রাজনৈতিক নেতা ও পরিচিত ব্যক্তির আটকের তথ্য পৃথকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : দ্য হিন্দু
মন্তব্যসমূহ