দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান ও নৈতিক ভিত্তি নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। তার অভিযোগ, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে শিক্ষার মানোন্নয়নের বদলে পরীক্ষায় পাসের হার বেশি দেখানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভীর দাবি, ওই সময়ে গুণগত শিক্ষার পরিবর্তে ৯০-৯৫ শতাংশ পাসের হার দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। এমনকি খাতায় উত্তর না লিখলেও শিক্ষার্থীকে পাস করিয়ে দিতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ওপর মহল থেকে চাপ দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘একটি জাতির মেরুদণ্ড যদি দুর্বল হয়, তবে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে পুরো জাতিই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিগত আমলগুলোতে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের ফলে আমাদের শিক্ষার কোয়ালিটি অনেক নিচে নেমে গেছে।
বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার স্থান ছিল না।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্দোলন ও দাবি আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, দলটি প্রতিশ্রুতি ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় করে এসেছে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবিদাওয়ার বিষয়ে বিএনপি সচেতন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভিশন ও পরিকল্পনায় শিক্ষক সমাজকে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না করার বিষয়টি রয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদসহ অন্যরা।
মন্তব্যসমূহ