ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক ছাড়িয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন ভাবনা ইইউর

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রচলিত দাতা-গ্রহীতার কাঠামোর বাইরে নিয়ে আরও উচ্চাভিলাষী অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অসীম। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভাবনা রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নেওয়ার।’ইইউ রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে।বাংলাদেশের অগ্রগতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ বা অস্ত্র ছাড়া সবকিছু বাণিজ্য সুবিধার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মাইকেল মিলার। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইইউ এখন আর সম্পর্ককে সেই পুরোনো কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না।এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণে সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মাইকেল মিলার জানান, এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ না করা কোনো দেশের ক্ষেত্রে ইইউর পক্ষ থেকে এমন বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। বিশেষ করে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।মাইকেল মিলারের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা থাকা জরুরি।চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই সংস্কার প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক ছাড়িয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন ভাবনা ইইউর