রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানির এই নতুন দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
পূর্বনির্ধারিত দিন অনুযায়ী বুধবার প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পরিচালনার কথা ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন জানান। এতে প্রসিকিউশন পক্ষ কোনো আপত্তি না জানালে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
শুনানি উপলক্ষে সকালে কারাগারে থাকা ১১ আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. দীপু মনি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, শাহরিয়ার কবির, মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
অন্যদিকে মামলার মূল অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের পলাতক ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। প্রসিকিউশনের আনা দুটি মূল অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে ঢাকার শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যা এবং পরদিন ৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ২০ জনকে নির্বিচারে হত্যার ঘটনা।
মন্তব্যসমূহ