শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরই অংশ বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে পূর্ণ নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড়দের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ভবিষ্যতে দেশ গড়ার দায়িত্ব আজকের শিশুদের ওপর বর্তালেও তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মেরও রয়েছে।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা যদি সঠিকভাবে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হও, সেটার দায় আমাদের ওপর এসে বর্তাবে। তাই তোমরা যদি দেশকে ভালোবাসো, তাহলে বাংলাদেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।”
শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ১৩ বছর আগেই ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করাও দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেছিলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “‘শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুরই অন্তরে’- এই কথার অর্থ হলো- শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক এবং দেশের নেতৃত্ব দেবে।”
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে এবং এই অভিজ্ঞতা তাদের সারাজীবন মনে রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
শিশুদের ভবিষ্যৎকে সৃষ্টির চলমান চাকার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পৃথিবী থেমে থাকে না, সৃষ্টির চাকা প্রতিনিয়ত সামনের দিকে এগিয়ে চলে। শিশুরাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। ফলে ভবিষ্যতের জন্য তাদের এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।
শিশুদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম।
মন্তব্যসমূহ