দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মহাকাশ রকেট ‘নুরি’ সফলভাবে ১৫টি স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। বুধবারের এই উৎক্ষেপণকে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে পরিচালিত অন্যতম জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোরিয়া স্পেস লঞ্চ ভেহিকল-২ (কেএসএলভি-২) নামের তিন ধাপের তরল জ্বালানিচালিত রকেটটি স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণস্থল ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার গোহেউংয়ে অবস্থিত নরো স্পেস সেন্টার, যা রাজধানী সিউল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
উৎক্ষেপণের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেটটির প্রথম ধাপ বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর পেলোড ফেয়ারিং ও দ্বিতীয় ধাপও সফলভাবে আলাদা হয়ে যায়।
উড্ডয়নের প্রায় ১২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পর নুরি পৃথিবী থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছালে এর তৃতীয় ধাপের ইঞ্জিন বন্ধ করা হয়। এরপর শুরু হয় একে একে ১৫টি স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপনের প্রক্রিয়া।
নুরির পঞ্চম উৎক্ষেপণ মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যাশনাল সেফটির জন্য নিউ-স্পেস আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনের (নিওনস্যাট) পাঁচটি ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো। স্যাটেলাইট পাঁচটি ৩৫ থেকে ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।
এরপর রকেটটি আরও ১০টি ছোট একাডেমিক ও বাণিজ্যিক কিউবস্যাট বা ন্যানোস্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠায়। এগুলো জোড়ায় জোড়ায় ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে স্থাপন করা হয়।
নুরির আগের অর্থাৎ চতুর্থ উৎক্ষেপণে একটি প্রধান পেলোড ছিল। এবার একই মিশনে ১৫টি স্যাটেলাইট নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করায় অভিযানের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মিশনের নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর নুরি মহাকাশে সংঘর্ষ এড়াতে কয়েকটি পরিকল্পিত কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তন করবে। পরে রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করে পুড়ে যাবে।
সূত্র : সিনহুয়া
মন্তব্যসমূহ